Thursday, November 23, 2017
Facebook Twitter LinkedIn Google+

শেয়ার বাজারের শীর্ষ পনের কোম্পানী

2

ঢাকা: বিনিয়োগকারীদের আস্থাভাজন এবং সর্বোচ্চ মুনাফা প্রদানকারী ২০টি কোম্পানীর তালিকা প্রকাশ করেছে বিজনেস লিডার ক্লাব। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ ধরনের ২০টি কোম্পানির তালিকায় উত্পাদনমুখী বহুজাতিক কোম্পানি যেমন রয়েছে, একই সঙ্গে রয়েছে দেশীয় কোম্পানিও। খাতভিত্তিক বিবেচনায় তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি।

শীর্ষ কোম্পানি নির্বাচনে ৫০০ কোটি টাকা বাজার মূলধন রয়েছে, এমন কোম্পানিকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি মূলধনি মুনাফা পেয়েছে
১. অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ: দেশে বিস্কুটের বাজারের বড় অংশ দখল করে আছে কোম্পানিটি। উন্নত প্রযুক্তি ও উত্পাদনসক্ষমতা বাড়ানোয় কোম্পানিটির পণ্য বিক্রির পরিমাণ নিয়মিত হারে বাড়ছে। চার বছরে অলিম্পিকের নিট মুনাফা বেড়েছে ১৩৫ শতাংশ।

২. স্কয়ার ফার্মা: ওষুধের বাজারের প্রায় ১৯ শতাংশ দখলে রয়েছে ওষুধ খাতের শীর্ষ কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের। কোম্পানিটির বাজার মূলধন ১৬ হাজার ১৭৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা বাজার মূলধনে শীর্ষ কোম্পানি তালিকার তৃতীয়।

৩. বিএটিবিসি: ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি)। উচ্চ করহারের কারণে গত বছর কোম্পানিটির নিট মুনাফা কিছুটা কমলেও ২০১২ সালের তুলনায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছে।

৪. লাফার্জ সুরমা: উত্পাদনসক্ষমতার প্রায় পুরোটা ব্যবহার করায় ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কোম্পানির রেভিনিউয়ে খুব বেশি পরিবর্তন নেই। ভারতে ক্লিংকার খনির জটিলতা নিরসন হওয়ায় লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কোম্পানির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা দেয়।

৫. বার্জার পেইন্টস: বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে মুনাফার প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড। ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে ৬১ শতাংশ। এ সময় কোম্পানির নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ।

৬. নিএসআরএম: চার বছরে বিএসআরএম স্টিলস লিমিটেডের নিট মুনাফা বেড়েছে ১০৯ শতাংশ। দেশীয় ইস্পাত শিল্পে শীর্ষ এ কোম্পানির ২০১৫ সালে নিট মুনাফা হয় ২০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা, ২০১২ সালে যার পরিমাণ ছিল ৯৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির বাজার মূলধন বেড়েছে ৪২ শতাংশ। ২০১৫ সালে এ শেয়ারে বিনিয়োগের বিপরীতে প্রকৃত লভ্যাংশের হার ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ। এ কোম্পানির মূল্য আয় অনুপাত ১৪ দশমিক ৪২।

৭. হাইডেলবার্গ সিমেন্ট: শেয়ারবাজারের সেরা কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রকৃত লভ্যাংশের হার সবচেয়ে বেশি হাইডেলবার্গ সিমেন্টের। কোম্পানিটি তিন বছর ধরে ৩০০ কিংবা এর বেশি হারে লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। ২০১৫ সালে এ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রকৃত লভ্যাংশ পেয়েছেন।

৮. আরএকে সিরামিক: আরএকে সিরামিকে বিনিয়োগের বিপরীতে প্রকৃত লভাংশ হচ্ছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। লোকসানি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বিক্রির পর কোম্পানির মুনাফা বাড়তে দেখা গেছে। ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে আরএকে সিরামিকের নিট মুনাফা প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে।

৯. সিঙ্গার বাংলাদেশ : দেশে ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রিতে একসময়ের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ছিল সিঙ্গার বাংলাদেশ। দীর্ঘমেয়াদে এ কোম্পানির শেয়ারের বিনিয়োগ থেকে উল্লেখযোগ্য মূলধনি মুনাফা পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

১০. ম্যারিকো বাংলাদেশ: চার বছরে কোম্পানির নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ১৫১ শতাংশ। এ সময়ে যারা এ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ধরে রেখেছেন, তাদের শুধু মূলধনি মুনাফাই হয়েছে ২৩৫ শতাংশ। এ কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঈল্ড ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া বহুজাতিক কোম্পানি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনে চার বছরে বিনিয়োগকারীদের মূলধনি মুনাফা হয়েছে ২০৩ শতাংশ।

১১. এসিআই লিমিটেড : নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে এসিআই লিমিটেড। ২০১২ সালে ১৬ কোটি টাকা লোকসান হলেও পরের বছরই তা কাটিয়ে ওঠে তারা। ২০১৫ সালে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ছিল ৭৬ কোটি টাকা। ২০১২ সাল থেকে যেসব বিনিয়োগকারী এ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ধরে রেখেছেন, তাদের মূলধনি মুনাফা হয়েছে ৪৩২ শতাংশ। চার বছরে কোম্পানির বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ।

১২. এসিআই ফর্মুলেষনস: সেরা কোম্পানির তালিকায় এসিআইয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসিআই ফর্মুলেশনস লিমিটেডও রয়েছে। চার বছরে এ কোম্পানির নিট মুনাফা বেড়েছে ৫২ শতাংশ। আর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা এ সময়ে ১০৪ শতাংশ মূলধনি মুনাফা পেয়েছে।

১৩. ইবনে সিনা ফার্মা: কয়েক বছর ধরেই ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে। গত চার বছরে এ কোম্পানির পণ্য বিক্রি বেড়েছে ৫৭ শতাংশ। এ সময়ে নিট মুনাফা বেড়েছে ১৬৫ শতাংশ। মুনাফা বাড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।

১৪. বেক্সিমকো ফার্মা: ঔষধ শিল্পের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মায় ৮৪ শতাংশ, অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যাল থেকে ৪৫ শতাংশ মূলধনি মুনাফা এসেছে।

১৫. এনভয় টেক্স: এনভয় টেক্সটাইলসে মূলধনি মুনাফা না হলেও বিনিয়োগের বিপরীতে তুলনামূলক ভালো লভ্যাংশ পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

জীবন সরকার
বিজনেস লিডার

সর্বশেষ সংবাদ