Saturday, September 23, 2017
Facebook Twitter LinkedIn Google+

মহাকাশে রহস্যময় শব্দ শুনলেন চীনের মহাকাশচারী

china

ঢাকা: চীনের প্রথম মহাকাশচারী ইয়াং লিওয়েই জানান, তিনি মহাকাশযানে থাকা অবস্থায় অদ্ভুত এক ঠক ঠক আওয়াজ শুনতে পান। এখনো পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি এটি কীসের শব্দ ছিলো ।

২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি চীনের প্রথম মহাকাশচারী হিসেবে শেনঝু ৫ মহাকাশযানে করে উড্ডয়ন করেন। তাকে টাইকোনট বলে ডাকা হয়। সম্প্রতি চায়না ন্যাশনাল টেলিভিশনে কথা বলার সময় তার সেই প্রথম ২১-ঘন্টার মিশনের এই ঘটনার কথা জানান। তিনি বলেন, মাঝে মাঝেই এই ঠক ঠক শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

“শব্দটা মহাকাশযানের ভেতর-বাহির কোনো দিক থেকেই আসছিল না। কিন্তু মনে হচ্ছিল কেউ মহাকাশযানের গায়ে বাড়ি দিচ্ছে, যেমনটা শোনা যায় লোহার বালতিতে কাঠের হাতুড়ি দিয়ে পেটালে।” বলেন তিনি।

এই শব্দ শুনে তিনি নার্ভাস হয়ে যান এবং একটি পোর্টহোল দিয়ে বাইরে তাকান। কিন্তু বাইরে তেমন কিছুই ছিলো না। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, একই ধরণের শব্দ ২০০৫ সালের শেনঝু ৬ এবং ২০০৮ সালের শেনঝু ৭ মহাকাশযানে থাকা চৈনিক মহাকাশচারীরাও শুনেছিলেন।

কী ছিল এই শব্দ? বেশ কিছু সম্ভাবনা আছে। হয়তো মহাকাশে ভাসতে থাকা আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিস মহাকাশযানের গায়ে আছড়ে পড়ার কারণে এই শব্দ হয়। তবে এর সম্ভাবনা কমই। মহাকাশের কম তাপমাত্রায় মহাকাশযানের শরীর প্রসারিত ও সংকুচিত হবার কারণেও এমন শব্দ তৈরি হতে পারে।

মহাকাশযানে রহস্যময় শব্দ শোনার ঘটনা এই প্রথম নয়। অ্যাপোলো ১০ এর মহাকাশচারীরা ১৯৬৯ এর মে মাসে চাঁদ প্রদক্ষিণ করে আসার সময়ে অদ্ভুত এক শিষ দেবার মত শব্দ শুনতে পান। সম্ভবত তা কোনো রেডিও ইন্টারফিয়ারেন্স ছিল।

অনেকেই ভাবতে পারেন কোনো এলিয়েন আমাদের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য মহাকাশযানে নক করছিলো। তবে এর আরও সম্ভাব্য কোন ব্যাখ্যা আছে নিশ্চয়ই। শুধুমাত্র চাইনিজ মহাকাশচারীরা এটা শুনেছেন, ফলে এটাও হতে পারে যে তাদের মহাকাশযানের গঠনের কোনো বিশেষত্বের কারণে এমনটা হয়ে থাকে। তবে এসব মহাকাশযান সফলভাবে নিজেদের মিশন শেষ করে, তাই ধরে নেওয়া যায় এটা খুব একটা বড় কোনো সমস্যা নয়।

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
বিজনেস নিউজ

সর্বশেষ সংবাদ