Wednesday, August 23, 2017
Facebook Twitter LinkedIn Google+

জেনে নিন কিভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনবেন

fat

স্বাস্থ্য: আমাদের জানা দরকার খাদ্যবস্তু মানব দেহের ওজন বৃদ্ধিতে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন ভাত, রুটি, আলু, চিনি, মিষ্টি ফল, সেমাই, ফিরনি, পায়েস, নুডলস, কেক, বিস্কুট, পাউরুটি, কোমল পানীয়, ফ্রুট জুস এবং তেল-চর্বি জাতীয় রিচফুড, বিরিয়ানি, ভুনা খিচুড়ি, হালুয়া, তেহারি, পোলাও, কোরমা ওজন বৃদ্ধির জন্য উত্তম খাদ্যবস্তু। চর্বিবিহীন অথবা কম চর্বিযুক্ত মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, কম মিষ্টি ও টক জাতীয় ফল এবং প্রায় সব ধরনের শাক-সবজি ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক নয়। খাবারের ব্যাপারে আরও বড় ব্যাপার হলো সর্বোপরি খাবারের পরিমাণ। খাবারের পরিমাণ কম খেলে অবশ্যই ওজন কমবে তবে তাতে ক্ষুধার জ্বালা বাড়বে, তাই খাবারের পরিমাণ খুব বেশি কমালে তা হিতে বিপরীত হতে পারে।

প্রথম মাস : আপনি তেল চর্বি আগে যা খেতেন তার তিন ভাগের এক ভাগ কমিয়ে দিন, তার মানে মাসে আপনি যদি তিন লিটার তেল খেতেন, তবে তা কমিয়ে দুই লিটারে নামিয়ে আনুন। সপ্তাহে যদি তিন বেলা পোলাও, বিরিয়ানি, তেহারি খেয়ে থাকেন তবে তা দুবেলা খাবেন। অন্যদিকে আপনি সপ্তাহে দুই কেজি সবজি গ্রহণ করে থাকলে তখন তিন কেজি পরিমাণ খাবেন। চর্বিবিহীন বা কম চর্বিযুক্ত মাছ, মাংসের এবং ডাল, ডিমের পরিমাণ কমানো-বাড়ানো প্রয়োজন নেই। তবে খুব বেশি তৈলাক্ত মাছ-মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। সফট ড্রিংকস ও ফ্রুট জুস খাওয়ার পরিমাণ তিন ভাগের এক ভাগ কমিয়ে ফেলুন। চটপটি, ফুসকা, ফাস্টফুডের পরিমাণ ও তিন ভাগের এক ভাগ কমিয়ে ফেলুন। ভাত-রুটি, আলু, চিনি, মিষ্টির পরিমাণ খুব বেশি না কমিয়ে পাঁচ ভাগের এক ভাগ কমিয়ে ফেলুন। তার মানে আগে যত পরিমাণ খেতেন বর্তমানে তার ৮০% খান। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটুন। এক অথবা দুই লেভেল সিঁড়িতে উঠা-নামা করুন।

দ্বিতীয় মাস : ওজন বর্ধক খাদ্যবস্তু তৈল, চর্বি, ফাস্টফুড, চটপটি, ভাত-রুটি, আলু, চিনি, মিষ্টি, বিরিয়ানি, তেহারি ইত্যাদির পরিমাণ গত মাসের চেয়ে ১০% কমিয়ে দিন। শাক-সবজি ও কম মিষ্টি ও টক ফলের পরিমাণ ২০% বৃদ্ধি করুন। তৃতীয় মাস : তেল চর্বির পরিমাণ এবং ভাত, রুটি, আলু, চিনি, মিষ্টির পরিমাণ এবং ফাস্টফুড, সফ্ট ড্রিংস, রিচ ফুডের পরিমাণ দ্বিতীয় মাসের চেয়ে আরও ১০% কম খাবেন এবং আলোচিত শাক-সবজি, সালাদ, কম মিষ্টি ও টক ফলের পরিমাণ দ্বিতীয় মাসের চেয়ে ২০% বৃদ্ধি করুন।

চতুর্থ মাস : আগে আলোচিত ওজন বর্ধনকারী খাবারের পরিমাণ গত মাসের চেয়ে আরও ১০% কমান এবং আগে আলোচিত শাক-সবজি ও ফলমূলের পরিমাণ গত মাসের চেয়ে ১০% বৃদ্ধি করুন। প্রতিদিন নিয়মিত এক ঘণ্টা হাঁটুন বা সাঁতার কাটুন বা দৌড়ান এবং তিন লেভেল পর্যন্ত সিঁড়িতে উঠা-নামা করুন। চতুর্থ মাসের খাদ্যাভ্যাস ও কায়িক শ্রম পরবর্তী সময়ে সঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করতে থাকুন। দেখবেন খুব অল্প সময়ে ওজন কমে তা স্বাভাবিক হয়ে গেছে এবং আপনার শারীরিক যোগ্যতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডা. এম. শমশের আলী, সি. কনসালট্যান্ট,

সর্বশেষ সংবাদ