Saturday, September 23, 2017
Facebook Twitter LinkedIn Google+

একটি অসমাপ্ত ভালবাসার গল্প

bangla-natok

একটি অসমাপ্ত ভালবাসার গল্প
রচনা ও পরিচালনায় : সুমন হোসেন
প্রযোজনায় :
স্পট নির্দেশনা ও সহকারী পরিচালনায় : সাইদুজ্জামান সোহেল

দৃশ্য নং : ০১
চরিত্র : রাজ, নিশি, সোহেল
স্থান : একটা সুন্দর নিঝুম স্থান (নোট: বসার জায়গা থাকবে আর পাশে থাকবে একটি সুন্দর রাস্তা)
সময় : দিন (সকাল)
দৃর্শ্য : নিশি বসে আছে রাজের অপেক্ষায় আর খুবই বিরক্তি বোধ করছে।
কিছুক্ষন পর সোহেল এসে, হাত দিয়ে নিশির চোখ বন্ধ করে ধরলো……..
সংলাপ :
নিশি : (একটু রেগে গিয়ে) দেখ রাজ এসব ফাজলামি একটুও ভাল লাগে না আমার (শুধু নিশির মুখ আর সোহেলের হাত দেখা যাবে)।
সোহেল : য়ু….হু ….এই সব হচ্ছে নাকি আজকাল।
নিশি : ওহ্ তুই।
সোহেল : হ্যা আমি, তো…?
নিশি : তুই না আরও বেশি বেশি।
সোহেল : কেন রে রাজ কি কি করে….?
নিশি : ধ্যাত এসব বাদ দে তো….এই সাত সকালে হঠাৎ কোথা থেকে আসলি আগে সেটা বল…?
সোহেল : যাচ্ছিলাম একটু বোনের বাসায় এই তো সামনেই। যাবি নাকি।
নিশি : নাহ্ আজ না
সোহেল : ওহ্ ইয়েস….আপনি তো আবার ওয়েটিং এ আছেন….কী যেন নামটা। আর…যে…আর…যে
নিশি : দেখ ভাল হবে না কিন্তু (সোহেল কে ধরতে যাবে, সোহেল ও দৌড়াবে। নিশি একটা কিছু ছুড়ে মারবে সেটা রাজ হঠাৎ ধরবে) (নোট : রাজের দৌড়ের ক্লোজ শর্ট)
সোহেল : (দূর থেকে) ওই ওই হয়ে গেল। ওকে আমি গেলাম কিন্তু, কাল ভার্সসিটিতে দেখা হবে।
(রাজ রোমান্টিক দৃষ্টিতে নিশির দিকে তাকাবে। কিন্তু, নিশি অত্যান্ত রেগে গিয়ে আগের জায়গায় বসবে। রাজ তার রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করবে) (রাগ ভাঙ্গনোর একটি রোমান্টিক দৃর্শ্য)
নিশি : আর হবে না তো এমন….
রাজ : এই যে আমি কান ধরছি (গান শুরু হয়ে যাবে। গানের কয়েকটি দৃর্শ্য। গান শেষে…….
নিশি : (খুব অবাক দৃষ্টিতে) রাজ কেন ভালবাস আমায়। আমি সুন্দরী তাই…?
রাজ : তোমার চেয়েও সুন্দরী আছে কত।
নিশি : রাজ প্লিজ…..
রাজ : উফ নিশি বাদ দাও না এসব। চল ঐদিকটাই গিয়ে একটু বসি। ঋধফব ওহ…..
—ঈঁঃ—

দৃশ্য নং : ০২
চরিত্র : রাজ ও নিশি
স্থান : রেস্টুরেন্ট
সময় : দিন
দৃর্শ্য : নিশি ও রাজ মুখোমুখি বসে থাকবে। এমন সময় রাজ নিশিকে একটি ফুল দিবে। ফুলটা পেয়ে নিশি অনেক লজ্জা পেল আর খুশি হল আর খুব হাসতে লাগল…
সংলাপ :
রাজ : এত হাসির কী হল। (নিশি তবুও হাসতে লাগল) দেখ আমি কিন্তু, চলে যাব।
নিশি : (রাজের হাতের উপর হাত রেখে) খুব ভালবাস না আমায়।
রাজ : হু
নিশি : তাহলে বিয়ে করতে চাও না কেন ?
রাজ : (দীর্ঘশ্বাস ফেলে) জানিনা
নিশি : রাজ সত্যিকরে বল তো ? কেন ভালবাস আমায় ? আমার বাবার অনেক টাকা তাই ?
রাজ : তাহলে তোমাকে বিয়ে করলে তো সেটাই পেতাম। আর তাছাড়া তোমার বাবার থেকেও ধনী কী এদেশে কম আছে
নিশি : তাহলে ?
রাজ : ভালবাসি….ভালবাসি তার আবার কারন হয় নাকি ?
নিশি : (মিষ্টি করে) রাজ তুমি না কিছু একটা লুকাচ্ছ আমার কাছে
রাজ : কিছুই লুকাচ্ছি না মাই ডিয়ার। চল আজ উঠি…..
—ঈঁঃ—

দৃশ্য নং : ০৩

চরিত্র : নিশি, সোহেল, মিথিলা (আরও দুজন বন্ধ থাকতে পারে)
স্থান : ভার্সিটি অথবা অন্য কোন সুন্দর জায়গা অথবা রেস্টুরেন্ট ও হতে পারে
সময় : দিন
দৃর্শ্য : সবাই কিছু খাবে
সংলাপ :
মিথিলা : আমার কিন্তু একটু ডাউট হচ্ছে। দেখ ভাল যখন বাসে, তখন কোননা না কোন চাওয়া তো আছেই।
সোহেল : হুম……আমারও না বিষয়টা খুব একটা বুঝে আসছে না। দেখ আমি বলি কী, ওর বিষয়ে আরও ভালমত না জেনে তুই আর বের্শি দূর এগোশ না।
নিশি : ঙশ র রিষষ ঃৎু
—ঈঁঃ—
দৃশ্য নং : ০৪
চরিত্র : নিশি, রাজ
স্থান : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় একটি নিরব জায়গা (যেখানে খুব আশে পাশে আর কাউকে দেখা যাবে না)
সময় : দিন
দৃর্শ্য : (নিশি শাড়ী পরে আছে) রাজ বসে আছে আর নিশি বসা থেকে হঠাৎ দাড়িয়ে
সংলাপ :
নিশি : (হাতে একটি অ্যাওয়ার্ড নিয়ে) আজ আমি খুব খুশি। অনেক ভাললাগছে আমার।
রাজ : হ্যা আমি তো জানতামই। যে তুমি এবার চিত্রাংকনে ফাস্ট হবে। কিন্তু, কম্পিটিশনে তুমি তো যেতেই চাচ্ছিলেনা।
নিশি : হ্যা তাই এসফলতার সকল কৃতির্তই আজ তোমার।
রাজ : (একটু মুচকি হেসে) তাই নাকি ?
নিশি : হ্যা তাই তুমি আজ আমার কাছে যা চাইবে তাই পাবে।
রাজ : অলরেডি পেয়েই গেছি।
নিশি : পেয়ে গেছ। কি ? তোমাকে শাড়ীতে দেখার খুব শখ্ ছিল আমার। তোমাকে আজ খুব দারুণ লাগছে।
নিশি : ও এটা। প্রোগামে যাওয়ার সময় মা অনেক জোর করল, তাই বাধ্য হয়ে। কিন্তু রাজ, সত্যিই তুমি কী চাও আমার কাছে ?
রাজ : কই চাই নি তো কিছু কখনও
নিশি : ভালবাস অথচ কিছুই চাও না। তাহলে ?
রাজ : না চাহিলে যারে, পাওয়া যায়………
নিশি : এ তো গান
রাজ : শধুই গান ?
নিশি : তা ছাড়া কী ? কোন কিছুই যদি না চাও, তবে ভালবাস কেন ?
রাজ : ভালবাসি তাই ভালবাসা দিতে চাই। অন্য কিছু চাইব কেন ?
নিশি : তুমি সত্যিই অদ্ভুত। তবে এতক্ষণ যেটা বলিনি তোমার গানের গলা কিন্তু সত্যিই দারুণ
রাজ : (একটু মুচকি হেসে) কী যে বলনা তুমি।
—ঈঁঃ—

দৃশ্য নং : ০৫
কাট (১)
চরিত্র : নিশি ও রাজ
স্থান : ক্রোমা (ওহ ঐড়ঁংব)
সময় : দিন
দৃর্শ্য : স্বপ্ন, নিশি দাড়িয়ে, রাজ অনেক দূর থেকে দৌড়াতে দৌড়াতে নিশির কাছে আসলো
সংলাপ :
নিশি : উফ্ রাজ, এত দেরি ?
রাজ : (হাফাতে হাফাতে) হাহ্ হাহ্……কী করবো বল ? তোমাকে নিয়ে দেখা আজকের স্বপ্নটা খুবই মজার ছিল।
নিশি : আশ্চার্য হয়ে। স্বপ্ন !
রাজ : হ্যা স্বপ্ন।
নিশি : তো কী দেখছিলে স্বপ্নে ?
রাজ : দেখলাম আমি তোমায় নিয়ে বিশাল আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছি।
নিশি : (একটু হেসে) হা: হা:…..দারুণ তো
রাজ : হ্যা
নিশি : তো কীভাবে উড়ছিলে আমায় নিয়ে ?
রাজ : আমার পিঠে গজানো বিশাল (বলে হাত ছেড়ে দিতেই তার পিঠে পাখা গজাবে) বড় পাখা….পাখা….
(পাখার দিকে তাকিয়ে আশ্চার্য হয়ে) এটা কি হল !
নিশি : ডধড়ৃ.ঊীপবষষবহঃ জধল. তাহলে, এবার আমাকে তোমার স্বপ্ন দেখাও প্লিজ…..
(নিশি খুব হাসছে) ঋষুরহম ঈৎড়সধ ঝযড়ৎঃ (ঋধফব ঋষধংযৃরহ)

কাট (২) (chroma in house)
চরিত্র : রাজ ও অনিল
স্থান : রাজে’র বেড রুম
সময় : দিন (সকাল)
দৃর্শ্য : রাজ ঘুমান্ত অবস্থায় উড়ার ভঙ্গি করছে আর আবল তাবল কিসব বলছে। অনিলের ঘুম ভেঙ্গে গেল, অনিল উঠে…….
সংলাপ :
অনিল : (রাজ কে নাড়া দিয়ে) রাজ এই রাজ
রাজ : (ঘুম ভেঙ্গে) হু কী হয়েছে ?
অনিল : আরে প্রতিদিন এসব কী শুরু করলি তুই। ধ্যাত তোর জন্য তো আজ কয়েকদিন ঘুমটাই হারাম হল আমার।
রাজ : ওহ্ দোস্ত সরি।
অনিল : থাক আর বলতে হবে না।
—ঈঁঃ—

দৃর্শ্য নং: ০৬
চরিত্র : নিশি ও রাজ
স্থান : সুন্দর রাস্তা অথবা ওভার সুন্দর ব্রীজ
সময় : দিন
দৃর্শ্য : (কয়েকদিন পর)
সংলাপ :
রাজ : জান আমি কাল সারা রাত বাঁশি বাজিয়েছি। আর সেই বাশির মায়াবী সুরে তুমি সারারাত নাচছিলে। সত্যিই অনন্য, অসাধারণ সেই নাচ।
নিশি : ধ্যাত কাল সারারাত আমি ঘুমিয়েছি !
রাজ : আমি কিন্তু তোমার নাচই দেখে গেছি সারারাত
নিশি : তাহলে তোমার বাশি একদিন শুনতে হবে দেখি।
রাজ : আজ শুনবে ?
নিশি : হ্যা বাজাও।
রাজ : এখানে নাকি
নিশি : তো কোথায় ?
রাজ : চল অন্য কোথাও উবংড়ষাব..ৃরহ
—ঈঁঃ—

দৃর্শ্য নং: ০৭
কাট : (১)
চরিত্র : নিশি ও রাজ
স্থান : একটি নির্জন স্থান, ঈৎড়সধ
সময় : দিন
দৃর্শ্য : উবংড়ষাব..ৃড়ঁঃ. নিশি ও রাজ পাশাপাশি বসে আছে। রাজ বাঁশি বাজাচ্ছে। নিশি আস্তে আস্তে চোখ বন্ধ করলো। হঠাৎ রাজ থেমে গিয়ে…..
সংলাপ :
রাজ : নিশি
নিশি : ডাক শুনলো
রাজ : কী হয়েছে তোমার ?
নিশি : কেন ?
রাজ : না…এই দিন দুপুরে তুমি ঘুমাচ্ছ ?
নিশি : না রাজ যা ভাবছ সেটা নয়। তোমার বাঁশির সুরে আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম এক অনন্য জগতে।
রাজ : কোথায় সেটা আবার ?
নিশি : (অবচেতনে) জানিনা। তবে, দেখলাম আমি যেন ভেসে বেড়াচ্ছি….(ঈৎড়সধ – রাজ সামনে বসে বাশি বাজাচ্ছে আর নিশি দূরে হাত ছেড়ে মাথা উচু করে খুশিতে বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে) আকাশের মাঝখানে দিন দিশার এক অনন্য জগতে।
রাজ : তাই নাকি। জান, ডাক্তার আমায় বাঁশি বাজাতে নিষেধ করেছে।
নিশি : সেকি, কেন ?
রাজ : বাঁশি আমায় টেনে নিয়ে যায় স্বপ্নের আবেশে (বলতে বলতে কল্পনা……..)

কাট : (২)
চরিত্র : রাজ, ডাক্তার, অনিল
স্থান : ডাক্তারের চেম্বার
সময় : দিন
দৃর্শ্য : (উবংড়ষাব..) সবাই চেয়ারে বসে আছে (স্বপ্ন একটু দূর্বল)
সংলাপ :
ডাক্তার : তাই তো বলছি, এসব বাশি বাজান আর স্বপ্ন ঠপ্ন দেখা, এখন থেকে তোমায় বাদ দিতে রাজ। আর রির্পোটে যতদূর দেখলাম এখন থেকে কেয়ার না নিলে বিষয়টা কিন্তু আরও সিরিয়াস হতে পারে। আর অনিল তুমি কিন্তু ওকে একটু চোখে চোখে রাখবে, কেমন…?
অনিল : ঠিক আছে স্যার, আমি আছি ওর পাশে।

কাট : ব্যাক (১)
রাজ : (একটু হেসে) ডাক্তার আরও কী বলেছে জান ?
নিশি : কী
রাজ : স্বপ্ন দেখে দেখে আমার মস্তিশকের শিরা উপশিরার মধ্যে নাকি জট পাকিয়ে যাচ্ছে।
নিশি : কেন, কি হয়েছে তোমার ?
রাজ : না তেমন কিছু না।
নিশি : তাহলে ডাক্তার যে রিপোর্টের কথা বলছিল। কীসের জন্য সেটা ?
রাজ : ও….ওটা এমনি
নিশি : (একটু রেগে) না রাজ তুমি কিন্তু সব কিচুতেই আমাকে এ্যাভোয়েট করার চেষ্টা করছ। এসব কিন্তু আমার আর সজ্জ্য হচ্ছে না।
রাজ : আরে আমার মাই গ্রেনে একটু পেইন হচ্ছিল তাই গিয়েছিলাম ডাক্তারের কাছে। আর আজ কালকের ডাক্তাররা যে কেমন সেটা তো বুঝোই
—ঈঁঃ—

দৃশ্য নং: ০৮
চরিত্র : নিশি ও রাজ
স্থান : নিশি বাড়ির ছাদে, স্বপ্ন রাস্তার এক কোণে
সময় : সন্ধ্যা অথবা রাত
দৃর্শ্য : দুজনের ফোনআলাপ। নিশি ফোনটা হাতে নিয়ে রাজকে কল দিল…….
সংলাপ :
নিশি : হ্যালো। কোথায় তুমি ?
রাজ : এই তো…………………….। তুমি কি করছ ?
নিশি : ভাবছি
রাজ : কি ভাবছ ?
নিশি : আমার বন্ধুরা আজ বলেছে, তুমি খুব ভাল, অসাধারণ। কিন্তু তুমি নাকি সৃষ্টিহীন
রাজ : কেন ?
নিশি : কারণ তোমার স্বপ্নগুলো সব অর্থহীন
রাজ : ও তাহলে আমার স্বপ্নের কথাও বলেছ তোমার বন্ধুদেরকে
নিশি : হ্যা বলেছি তো। এসব স্বপ্ন ঠপ্ন গুলো ছেড়ে দিতে পার না তুমি ?
রাজ : না পারি না
নিশি : কেন ?
রাজ : যতদিন পারি স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে থাকতে চায়।
নিশি : তাহলে,…তুমি তো আমাকে হারাবেই
রাজ : তোমায় পায় নি তো কখনও
নিশি : ওহ্ রাজ তুমি এমন কেন ?
রাজ : আমি এমনই
নিশি : আচ্চা সে যাই হোক। শুনলাম কাল নাকি তোমার একটা বড় অপারেশন হতে যাচ্ছে ? কই তুমি তো আমাকে বলনি সেটা।
নিশি : বড় অপারেশন, কে বলল ? এমনিই ছোট খাট অপারেশন। এসব নিয়ে তোমাকে এত চিন্তা করতে হবে না।
নিশি : মানে আমি তোমায় নিয়ে চিন্তা করব না তো কে করবে ?
রাজ : না দেখ, আমি সেভাবে ঠিক বলি নি।
নিশি : (নিশি মা তাকে দূর থেকে ডাকছে। ডাক শুনে তড়িঘড়ি করে) এই দেখ মা ডাকছে এখন রাখি……বাই
রাজ : ওকে……বাই
—ঈঁঃ—

দৃশ্য নং : ০৯

চরিত্র : নিশি, অনিল ও রাজ
স্থান : হাসপাতালের বেড ফৎবংং ফঢ় : ১০ ংধসব
সময় : দিন
দৃর্শ্য : রাজ শুয়ে, নিশি পাশে বসে আর অনিল এক কোণে দাড়িয়ে আছে।
সংলাপ :
নিশি : (রাজকে একটা ফুলের তোড়া দিয়ে বলল) এড়ড়ফ গড়ৎহরহম.
রাজ : ঞযধহশং
নিশি : এখন কেমন ফিল করছো ?
রাজ : অনেক ভাল
নিশি : এখনও আর স্বপ্ন দেখছ না তো ?
রাজ : দেখছি আরও সুন্দর সব স্বপ্ন।
নিশি : (আশ্চার্য হয়ে) সে কি ! তাহলে তো দেখছি, অপারেশনটা আদৌ সফল হয়নি। (একটু রেগে) অনিল দাদা তুমি একটু বোঝাতে পার না ওকে ?
অনিল : হ্যা, আমার যা বলার তা তো আমি ওকে বলেই দিয়েছি।
নিশি : (মনটা খারাপ করে অল্প রাগ রাগ নিয়ে) আমি এখন যাচ্ছি। এখনও সময় আছে, তুমি প্লিজ ওকে একটু বোঝাও।
—ঈঁঃ—

দৃশ্য নং : ১০

চরিত্র : নিশি ও রাত্রি
স্থান : নিশির বাসা ফৎবংং ফঢ় : ৯ ংধসব
সময় : দিন
দৃর্শ্য : দুজন পাশাপাশি বসে আছে। নিশি কাদো কাদো ভাব নিয়ে চোখ মুছছে।
সংলাপ :
রাত্রি : দেখ বাঁশি বাজানো স্বপ্ন দেখা এসব ব্যাকডেটেড কল্পনা মাত্র। তুই আর লোক পেলি না। তুই এত রূপসি, তোর এত উজ্বল প্রসপেট…
নিশি : (একটু ঝাড়া গলায়) তাহলে আমি এখন কি করবো ?
রাত্রি : ভাল যদি চাশ, তাহলে এক্ষুনি বিয়ে করে ফেল। আমাদের দাদার সেই বন্ধুকে। উনি তো শুনলাম ক্যানাডাতেই সেটেল করবেন। (নিশি চুপ করে রইল) কি হল কিছু বল
নিশি : আমার এখন কিছুই ভাল লাগছে না। (বলেই উঠে চলে গেল)
—ঈঁঃ—

দৃশ্যনং : ১১
চরিত্র : নিশি ও রাজ
স্থান : একটি চলন্ত নিঝুম রাস্তা
সময় : দিন
দৃর্শ্য : রাজ হেটে যাচ্ছে এমন সময় নিশি দূর থেকে তাকে ডাকছে আর দৌড়াতে দৌড়াতে রাজের দিকে এগিয়ে আসছে……..
সংলাপ :
নিশি : রাজ…রাজ দাড়াও। (একটু হাফিয়ে) কোথায় যাচ্ছ ?
রাজ : মানে ভুলে গেছ ? তুমিই তো আসতে বললে
নিশি : আচ্ছা সে যাই হোক। তোমার সাথে আমার কিছু ইমারজেন্সী কথা আছে।
রাজ : বল
নিশি : হাটতে হাটতে আমাকে আজই একটা ফাইনাল ডিসিশন তোমার দিতেই হবে।
রাজ : কি ডিসিশন ?
নিশি : তুমি সত্যিই কি চাও বল তো ?
রাজ : আবি চায় -তুমি অনেক….অনেক ভাল থাক, আরও সুন্দর আর সার্থক হয়ে উঠুক তোমার জীবন।
নিশি : ব্যাস এটুকুই। আর কিছুই না।
রাজ : আর চাই তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে
নিশি : ও….(হালকা ব্যঙ্গ আর কষ্টে ভরা হাসিতে) স্বপ্ন তাহলে তুমি ছাড়তে পারবে না।
রাজ : না। কেন ছাড়ব স্বপ্নকে। এ স্বপ্ন দেখার স্বপ্নটুকু নিয়েই তো বেঁচে আছি।
নিশি : আর আমি ?
রাজ : তুমি তো আছোই আমার পাশে, তাই না ?
নিশি : না (প্রচন্ড রেগে গিয়ে চোখ লাল করে বলল) থাক তুমি তোমার স্বপ্ন নিয়ে (বলেই প্রস্থান)
রাজ : নিশি শোন…….নিশি প্লিজ। ওহ্ গড
—ঈঁঃ—

দৃর্শ্য নং : ১২
বেশ কয়েকদিন পর
চরিত্র : নিশি, রুদ্র, সোহেল, মিথিলা (Flash Back : ডাক্তারের অপারেশন রাখা যায়)
স্থান : সুন্দর বসার জায়গা পাশে মেইন রোড দেখা যাবে
সময় : দিন
দৃর্শ্য : সোহেল, মিথিলা আরও এক বন্ধু বসে গল্প করছে। হঠাৎ পাশে একটি প্রাইভেট কার এসে থামল। গাড়ি থেকে শাড়ি পরা অবস্থায় নিশি নেমে এল…
সংলাপ :
মিথিলা : একি রে নিশি তুই। হঠাৎ ?
নিশি : হ্যা এই পথ দিয়েই যাচ্ছিলাম তো, গাড়িতে বসে দূর থেকেই দেখলাম পেলাম তোদেরকে। তাই চলে এলাম দেখা করতে।
সোহেল : যাক, ভালই করেছিস। কিন্তু, আজ কয়েকদিন তোকে ফোনে পাচ্ছিনা কেন ?
নিশি : আসলে ফোনটা তো বাড়িতেই, আর…
মিথিলা : (মুখের কথা কেড়ে নিয়ে) আর তুই এতদিন কোথায় ছিলি ?
নিশি : wait wait বলছি। তার আগে তোদের জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।
সোহেল : Ohh Sit হঠাৎ আমাদের জন্য সারপ্রাইজ !
নিশি : হ্যা। রুদ্র (বলে উচ্চস্বরে ডাকদিল, গাড়ি থেকে রুদ্র বেরিয়ে এসে নিশির পাশে দাড়াল) পরিচয় করিয়ে দি। ফ্রেন্ড আমার হাজবেন্ট রুদ্্র। আর রুদ্র ও হল সোহেল আর ও হল এরা দুজনই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড (সবাই অবাক হয়ে বসা থেকে উঠে দাড়াল)
রুদ্র : Hello Everybody I am Rudrro. How are you?
মিথিলা ও সোহেল : (আস্তে বাধো বাধো করে বলল) হ্যা আমরা ভালআছি। আপনি ?
রুদ্র: Oh Yeah I am Fine.
নিশি : আসলে বিয়ের পর দিনই বাবা আমাদের দুজনকে জোরকরেই সিঙ্গাপুরে হানিমুন-এ পাঠিয়েছিল। সেখান থেকেই আজ ব্যাক করলাম।
মিথিলা : (বাধো বাধো করে অবাক হয়ে বলল) আর বিয়েটা। নিশি….. তুই আমাদেরকে কিছু না জানিয়েই বিয়ে করে ফেললি ?
নিশি : ওহ্ সরি সরি দোস্ত। আসলে একটা ঝামেলার কারণে আমাদের বিয়েটা হঠাৎ হয়ে। আর বাবা তো কাউকে জানানোর সময়টাই দিল না।
রুদ্র: Oh i am extremly sorry for that.
সোহেল : না না ঠিক আছে।
নিশি : তবে, তোদের জন্য আমি শীঘ্রই একটা পার্টির ব্যাবস্থা করছি। এই শোননা, আমার না আজ অনেক তাড়া আছে। তাহলে, আজ না আসছি হ্যা। ভাল থাকিস তোরা….রুদ্্র চল।
রুদ্র : বাই
বন্ধুরা : ওকে টা টা।
নিশি : (রুদ্র গাড়িতে উঠে গেল। নিশি ফিরে এসে বলল) তোদেরকে তো একটা কথা বলতে ভুলে গেলাম…..
মিথিলা : কি ?
নিশি : এখন দেখছি তোদের কথাই ঠিক। স্বপ্নের থেকে বাস্তব অনেক ভাল রে। (একটু ব্যাঙ্গ হেসে) স্বপ্ন তো দেখে শুধু বোকারাই।
সোহেল : হ্যা ঠিক তাই। আচ্ছা নিশি, রাজ কোথায় আছে তুই জানিস কিছু ?
নিশি : নাহ্ আমি কি করে জানব। দেখ কোথায় গিয়ে আবার হয়ত বাঁশি বাজাতে বসেছে গেছে। সোহেল : নিশি তোকে আমার একটা জিনিস দেওয়ার ছিল। (পকেট থেকে একটা ছেড়া চিঠি বের করে নিশিকে দিল)
নিশি : কি এটা ?
সোহেল : পড়ে দেখ।
চিঠিতে লেখা আছে : ২৪শে এপ্রিল, ২টা অপারেশনের পর আজ আমার শেষ অপারেশন। জানিনা আমার কি হবে। জীবন মৃর্ত্যূর এক এক দারপ্রান্তে দাড়িয়ে আমি তোমার দেখা পেয়েছি। তাই তোমায় নিয়ে শুধু স্বপ্নই দেখি আমি। নিশি প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিও……..ইতি রাজ
নিশি : এটার মানে ?
সোহেল : ও আর আমাদের মাঝে নেই। (একথা শুনে নিশির চোখ বড় বড় হয়ে গেল)
নিশি : ( আরও আশ্চার্য হয়ে) কি !
মিথিলা : ওর ব্রেইন ক্যারসার ছিল। এ মাসের ২৪তারিখে খধংঃ অপারেশনের পর ও আর……(ঘাড় নাড়াতে থাকে)
একথা শুনে নিশির মাথার উপর আকাশটা যেন ভন ভন করে চর্তুদিকে ঘুরতে লাগল আর দুই ফোটা চোখের পানি সেই ছেড়া চিঠির উপর পড়ল।

———সমাপ্ত————

সর্বশেষ সংবাদ